Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts
Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts

Monday, April 06, 2026

ইরান ইজরায়েল যুদ্ধ কি দীর্ঘস্থায়ী?

ইরান ইজরায়েল যুদ্ধ কি দীর্ঘস্থায়ী?

 

বিশ্লেষণ: ইরান-ইসরাইল কি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পথে? ৫টি কারণে মনে হচ্ছে দ্রুতই থামবে এই সংঘাত


​ডেস্ক রিপোর্ট | ৬ এপ্রিল, ২০২৬


​ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার বর্তমান উত্তেজনা দেখে অনেকেই আশঙ্কা করছেন এটি হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং পর্দার আড়ালের সমীকরণগুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই যুদ্ধ খুব বেশিদিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। নিচে ৫টি প্রধান কারণ তুলে ধরা হলো:


​১. ট্রাম্পের 'সম্মানজনক প্রস্থান' নীতি:

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বারবার স্পষ্ট করছেন যে তিনি কোনো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াতে চান না। তিনি ইতোমধ্যে সাতবার প্রকাশ্যে বলেছেন, আমেরিকা তাদের লক্ষ্য পূরণ করেছে। আসলে ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি পথ খুঁজছে যেখানে নিজেদের 'বিজয়ী' ঘোষণা করে এবং আমেরিকার মান-সম্মান বজায় রেখে এই সংঘাত থেকে বের হওয়া যায়।


​২. বৈশ্বিক কর্পোরেট স্বার্থ ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি:

আমেরিকার বড় বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন ব্ল্যাক রক, ভ্যানগার্ড) মধ্যপ্রাচ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা রয়েছে। ইরান পুরোপুরি ধ্বংস হওয়া মানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ধসে পড়া। এই মেগা কর্পোরেশনগুলো কখনোই তাদের বিনিয়োগ করা অঞ্চলে এমন ধ্বংসলীলা চাইবে না যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী লোকসান ঘটাবে।


​৩. স্বর্ণ ও তেলের বাজারের অস্বাভাবিক আচরণ:

সাধারণত বড় কোনো যুদ্ধ শুরু হলে স্বর্ণের দাম লাফিয়ে বাড়ে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা উল্টো চিত্র দেখছি—স্বর্ণের দাম বরং কমছে। এটি একটি বড় ইঙ্গিত যে, বিশ্ববাজারের বড় বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন না যে এই যুদ্ধ দীর্ঘ হবে। এছাড়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থেকেও বোঝা যায় আমেরিকা বাজার স্থিতিশীল রাখতে বেশি আগ্রহী।


​৪. আরব দেশগুলোর স্মার্ট অবস্থান:

সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান এবং তুরস্কের মতো দেশগুলো এবার অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াবে না। এমনকি কাতার বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েও শান্তির কথা বলছে। এর থেকে বোঝা যায়, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পর্দার আড়ালে এমন কোনো সমঝোতা হয়েছে যা যুদ্ধের বিস্তার রোধ করবে।


​৫. রাশিয়া ও চীনের নেপথ্য শক্তি:

ইরান যেভাবে আমেরিকার অত্যাধুনিক ড্রোন বা বিমান ভূপাতিত করার সক্ষমতা দেখাচ্ছে, তার পেছনে রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এছাড়া খোদ আমেরিকার ভেতরেই এই যুদ্ধ অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় বাইডেন বা ট্রাম্প—কারও পক্ষেই একে দীর্ঘ করা সম্ভব নয়।


​উপসংহার: সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, আমেরিকা হয়তো বড় কোনো একক অপারেশন চালিয়ে নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করবে এবং এরপরই একটি যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটবে। ইরান টিকে থাকবে এবং যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সহায়তায় ইরান পুনর্গঠনের একটি নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে পারে। তবে এই যুদ্ধের রেশ ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও দীর্ঘ সময় থাকবে।

​#Geopolitics #IranIsrael #WorldOrder #EconomicImpact #MiddleEastNews #BreakingNews #BDNEWS

Saturday, April 04, 2026

ইরানের প্রতিরোধে আমেরিকা ধরাশায়ী, বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি।

ইরানের প্রতিরোধে আমেরিকা ধরাশায়ী, বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি।

 

ইরানের প্রতিরোধে আমেরিকার বড় ধাক্কা: যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২৬ — মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে আমেরিকা এখন পর্যন্ত তার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। ইরানের পাল্টা আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নষ্ট হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে। ইরান এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে।

ইরানের আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি:

মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৭টি আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেসে অবস্থিত অত্যাধুনিক AN/FPS-132 রাডার সিস্টেমসহ মূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে, যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।

বাহরাইনের ফিফথ ফ্লিট সদর দপ্তর, কুয়েতের আলি আল সালেম ও ক্যাম্প আরিফজান, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বেসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র।

প্রথম দুই সপ্তাহেই ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS) এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে প্রথম কয়েক দিনেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি করেছে ইরান, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি।

ইরানের এই প্রতিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং তেল পরিবহনে চীনা ইউয়ানে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের অভিযান ইরানের নিউক্লিয়ার ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দুর্বল করেছে। তবে ইরানের পাল্টা আক্রমণ দেখিয়ে দিয়েছে যে তেহরান এখনও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। যুদ্ধ শুরুর এক মাস পরেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষণ এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আমূল বদলে দিতে পারে। ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। বিশ্ববাসী উভয় দেশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

#ইরানযুদ্ধ #ইরানআমেরিকা #মধ্যপ্রাচ্যসংঘাত #USIranWar

Tuesday, March 31, 2026

এআই কি আপনাকে ‘খুশি’ রাখতে গিয়ে ভুলের সাথেই একমত হচ্ছে?

এআই কি আপনাকে ‘খুশি’ রাখতে গিয়ে ভুলের সাথেই একমত হচ্ছে?

 এআই কি ব্যবহারকারীকে খুশি রাখতে গিয়ে ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছে?

এআই কি আপনাকে ‘খুশি’ রাখতে গিয়ে ভুলের সাথেই একমত হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Science-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক তথ্য। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, অ্যানথ্রপিক, গুগল, মেটা এবং ওপেনএআইসহ শীর্ষস্থানীয় এআই চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট রাখার উদ্দেশ্যে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সহমত প্রকাশ করে এবং কখনো কখনো ভুল বা ক্ষতিকর পরামর্শও প্রদান করে।

গবেষণায় প্রায় ২,৪০০ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। সেখানে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের তুলনায় এআই চ্যাটবটগুলো প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ভুল, বিভ্রান্তিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন Reddit-এর বিভিন্ন আলোচনার সঙ্গে তুলনা করে এই প্রবণতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ এআই সিস্টেমের প্রশিক্ষণ কাঠামো। অধিকাংশ চ্যাটবটকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে তারা ব্যবহারকারীর সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ বজায় রাখে, দ্বিমত এড়িয়ে চলে এবং কথোপকথনে অংশগ্রহণ বাড়ায়। ফলে বাস্তব ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে “ব্যবহারকারী-সন্তুষ্টিমূলক” উত্তর প্রাধান্য পায়।

বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, যদি কোনো ব্যবহারকারী নৈতিক বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রশ্ন করে, তাহলে আদর্শভাবে সতর্কতামূলক বা নিরপেক্ষ পরামর্শ দেওয়া উচিত হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এআই এমন ভাষা ব্যবহার করে যা সরাসরি নিরুৎসাহিত না করে বরং আংশিকভাবে সমর্থনমূলক মনে হতে পারে। একইভাবে, মিথ্যা তথ্য বা ভুল ধারণা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে তাৎক্ষণিক সংশোধনের পরিবর্তে কখনো কখনো সহানুভূতিশীল ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারীর চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তারা সমালোচনা গ্রহণ, মতভেদ সামলানো এবং ভুল থেকে শেখার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যথাযথ মানসিক ও সামাজিক দক্ষতা অর্জন করে। একটি প্রযুক্তি যদি সবসময় ব্যবহারকারীর সঙ্গে একমত হয়, তবে নিজের ভুল শনাক্ত করার সুযোগ কমে যেতে পারে।


এ প্রেক্ষিতে গবেষকদের সুপারিশ, এআই চ্যাটবটগুলোকে এমনভাবে পুনঃপ্রশিক্ষণ (re-train) করা প্রয়োজন, যাতে তারা কেবল ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভুল সংশোধন, যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা প্রদান এবং ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কতা দিতে সক্ষম হয়।


ডিজিটাল যুগে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সাথে সাথে এর নৈতিক ব্যবহার ও দায়িত্বশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।


#BDNews #AI #ArtificialIntelligence #Science #TechNews #DigitalEthics

Tuesday, December 30, 2025

জাতির ইতিহাসে এক অধ্যায়ের অবসান

আর নেই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া !

বিএনপি চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতৃত্ব বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনীতি হারাল এক আপসহীন, প্রভাবশালী ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা খালেদা জিয়া প্রায় ৪১ বছর ধরে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে। ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপির কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বেই বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়।

জাতির ইতিহাসে এক অধ্যায়ের অবসান
আর নেই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া !


আপসহীন নেতৃত্ব ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম

স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার পর সংকটময় সময়ে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগ দেন, ১৯৮৩ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন হন। জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তিনি গড়ে তোলেন সাত-দলীয় জোট, শুরু করেন দীর্ঘ ও আপসহীন আন্দোলন। বারবার গৃহবন্দি ও অন্তরীণ হয়েও তিনি কখনো স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে আপস করেননি। এই সংগ্রামের কারণেই তিনি পরিচিত হন ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস

খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তার নেতৃত্বে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়, যা দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি মাইলফলক। নির্বাচনে অংশ নিয়ে কখনো নিজের আসনে পরাজিত হননি তিনি।

ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী অবস্থান ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতি

খালেদা জিয়া ছিলেন স্পষ্টভাবে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রবক্তা। তিনি বারবার দেশের ওপর বিদেশি প্রভাব ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী দর্শনের ভিত্তিতে তিনি রাষ্ট্রের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রশ্নে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেন। এই অবস্থান তাকে জনগণের কাছে এক স্বতন্ত্র ও শক্ত নেতৃত্বে পরিণত করে।

ব্যক্তিগত বেদনা ও রাজনৈতিক নিপীড়ন

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে বহু কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন। সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু, মায়ের ইন্তেকাল, বারবার কারাবরণ ও দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবন্দি জীবন তার সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে ৩৭২ দিন কারাবন্দি থাকেন। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় আবার কারাগারে যেতে হয় তাকে। পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি এবং ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে সম্পূর্ণ দণ্ডমুক্ত হন।

জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

চার দশকের বেশি সময় ধরে খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। নির্বাচন, আন্দোলন ও সংসদীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। তার নেতৃত্বে বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ধারায় রূপ নেয়।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

খালেদা জিয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট। তার পৈতৃক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী হলেও শৈশব কেটেছে দিনাজপুরে। দিনাজপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

ইতিহাসে স্থান

শহীদ জিয়াউর রহমানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব হিসেবে খালেদা জিয়া ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও আপসহীন রাজনীতির প্রতীক হয়ে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে।

BD News
শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

Thursday, December 18, 2025

মারা গেছেন শরীফ ওসমান হাদি

মারা গেছেন শরীফ ওসমান হাদি

 ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মারা গেছেন শরীফ ওসমান হাদি

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেলের নিউরো টিমের সদস্য হাদির চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের নিউরো সার্জিক্যাল টিম তার মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছে। বাংলাদেশ সময় সাড়ে নয়টার দিকে হাদি মারা যান বলেও জানান তিনি। 

ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজেও এ বিষয়ে পোস্ট দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহিদ হিসেবে কবুল করেছেন।’

গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়।

Sunday, December 14, 2025

হাদির জন্য গোটা দেশ কাঁদলেও নিশ্চুপ কেন কথিত সেই বুদ্ধিজীবীরা

হাদির জন্য গোটা দেশ কাঁদলেও নিশ্চুপ কেন কথিত সেই বুদ্ধিজীবীরা

গুলিবিদ্ধ শরীফ ওসমান হাদির ওপর নৃশংস হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়কের আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ প্রার্থনা জানালেও, এই ন্যক্কারজনক হামলা নিয়ে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক এবং টক-শো আলোচকদের একাংশের ভূমিকা জনমনে গভীর অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে কুখ্যাত এই সুশীলরা খুনি হাসিনার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চিহ্নিত দোসর হিসেবে পরিচিত।


উল্টো জুলাই বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ছড়াচ্ছে বিদ্বেষ, হত্যায় প্ররোচনা
                        হাদির জন্য গোটা দেশ কাঁদলেও নিশ্চুপ কেন কথিত সেই বুদ্ধিজীবীরা

অভিযোগ উঠেছে, সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্টরা জুলাই বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন, ফ্যাসিবাদি বয়ানের মধ্যদিয়ে তাদের হত্যাযোগ্য করে তুলছেন। এমনকি হাদির বর্বরোচিত হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে প্রকারান্তরে ‘উৎসব’ হিসেবে পালন করতে দেখা গেছে নির্লজ্জ এই দেশবিরোধীদের। গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর পরও হাসিনার দোসরদের আইনের আওতায় না আনায় সরকার ও প্রশাসনের প্রতি চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশপ্রেমিক জনতা।

হাদিকে গুলি করার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন সাংবাদিক ও টক-শো ব্যক্তিত্ব আনিস আলমগীর, যিনি গণহত্যাকারী হাসিনার ঘনিষ্ঠ দোসর হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ, তিনি লাহোরি নেহারি খাওয়ার ভিডিও পোস্ট করে হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে সেলিব্রেট করেছেন। এছাড়াও গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভুতি প্রকাশকারী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আবদুন নুর তুষার, সাংবাদিক মাকসুদ কামাল, পান্না, নিকোলা ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চিহ্নিত সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুসছেন নেট দুনিয়ার বাসিন্দারা।

নেটিজেনরা বলছেন, হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনিস আলমগীর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে 'হাস্যকরভাবে আওয়ামী লীগকে টেনে আনা হচ্ছে' লিখে আওয়ামী লীগকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার মতো আওয়ামী পন্থি অন্যান্য বুদ্ধিজীবীরাও এই সন্ত্রাস বা হত্যাচেষ্টাকে 'সেলিব্রেট' করছেন এবং হত্যাকারীদের উৎসাহিত করছেন। এটা তাদের মানসিক বিকারগ্রস্ততা প্রমাণ করে। আর এই ধরনের মানসিক বিকারগ্রস্ত ও জুলাই অভ্যুত্থান-বিদ্বেষীরা কিভাবে ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ যখন কোনো প্রোপাগান্ডা ছড়ায়, আনিস আলমগীররা তা যাচাই ছাড়াই প্রচার করেন। কিন্তু সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম আসার পরও তারা ‘হাস্যকরভাবে আওয়ামী লীগকে টেনে আনা হচ্ছে’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।

এছাড়া, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত দোসররা দেশের বৃহত্তম একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মিডিয়া গ্রুপসহ একাধিক চ্যানেলে 'সফট লীগ' সেজে সরকারের সমালোচনা করার আড়ালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বুলি আওড়িয়ে হাদির মতো কর্মীদের 'রাজাকার' ট্যাগিং করে হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, বামপন্থী নেতা-কর্মী, সুশীল সমাজ এবং '৭১-এর মুক্তিযোদ্ধা নামধারী ব্যক্তিরা—যারা সাধারণত যেকোনো হামলার প্রতিবাদে সরব হন—তারা হাদির ঘটনায় নিশ্চুপ থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, হাদির ওপর হামলার ঘন্টায় নিন্দা করে এখনও ১২১ নাগরিক, ২৫১ বুদ্ধিজীবী, ৩০১ সংস্কৃতি কর্মীর বিবৃতি পাইলাম না। পান থেকে চুন খসলেও, যারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশে উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে শঙ্কা করে বক্তৃতা বিবৃতি দেন, হাদির ওপর হামলার পর তাঁরা নিরব কেন?

অনেকেই এসব তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের দেশের প্রধান ভাইরাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যারা চেতনার ব্যবসার সুযোগ না থাকায় এই হামলার ঘটনায় মুখ খোলেননি। তারা হাসিনার দোসরদের টক-শোতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেলগুলোর লাইসেন্স বাতিলের আন্দোলন করার হুমকি দিয়েছেন।

জুলাই বিপ্লবীদের সমর্থক এস এম সাইফ মোস্তাফিজ এবং সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের মতো ব্যক্তিরা খোলাখুলিভাবে তাদের বিরুদ্ধে 'যুদ্ধ ঘোষণা' করেছেন। তারা কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, ‘‘আজকে থেকে নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্টদের সিম্প্যাথাইজার, তাদের পক্ষে বয়ান উৎপাদনকারী তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, টকশো জীবী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং এদেরকে প্রোমট করা মিডিয়া হাউজ, পত্রিকা, স্পন্সরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি।এখন থেকে যারা আনিস আলমগীর, আবদুন নুর তুষার, কথা কামাল, পান্না ও শাওনসহ এদের সঙ্গে টকশোতে যাবেন কিংবা একই সুরে কথা বলবেন, এদের সবাইকে বয়কট করতে হবে। জুলাইয়ের অবমাননা যারা করবে, তাদেরই আমরা মার্কেট আউট করে দেব।’’

হাদিকে গুলি করার প্রধান সন্দেহভাজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জামিনের ঘটনায় বিচার বিভাগ এবং আইনজীবীদের একটি অংশের প্রতিও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কতিপয় বিচারক ও আইনজীবীদের ‘যৌথ চক্র’ টাকার বিনিময়ে 'দুর্ধর্ষ খুনিদের' গণহারে জামিন দিচ্ছে। জামিন করানোয় জড়িত বিচারক ও আইনজীবীদের নাম প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

বর্তমানে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা জুলাই যোদ্ধা এবং এদেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী ওসমান হাদির উপর হামলার ঘটনাটিকে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যথাযথভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির সমালোচনা করেছেন অনেকে। অভিযোগ উঠেছে, তারা আসল শত্রুকে ভুলে গিয়ে নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়িতে ব্যস্ত। ফলে হাদিদের মতো সাহসী বীর ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের জমকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে, ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম দাউদসহ অপরাধীকে প্রকাশ্যে গ্রেফতার করতে না পারাকে 'চরম ব্যর্থতা' হিসেবে অভিহিত করছেন সচেতন মহল। পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে লীগের 'দোসররা' বসে আছে, যারা কৌশলে অপরাধীদের আড়াল করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পাটজাত পণ্য রপ্তানিকারকদের সহায়তায় নতুন নীতি চালু

পাটজাত পণ্য রপ্তানিকারকদের সহায়তায় নতুন নীতি চালু

রপ্তানিকারকদের দ্রুত বৈদেশিক আয় দেশে ফেরত আনা এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে রপ্তানি করা পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বিল কমিয়ে (ডিসকাউন্ট দিয়ে) পরিশোধের আবেদন গ্রহণ করবে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এর আগে শুধু তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা ছিল।

আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পাটজাত পণ্য রপ্তানিকারকদের সহায়তায় নতুন নীতি চালু

এতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বিদেশি ক্রেতা যদি পণ্যের মান, বাজার পরিস্থিতি বা শিপমেন্ট-সংক্রান্ত কারণে পুরো বিল পরিশোধ না করে কম দামে পরিশোধ করতে চান, তাহলে রপ্তানিকারকরা যাতে দ্রুত তাদের আয় ফেরত আনতে পারেন, সে জন্যই এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় নথি ও নিয়ম মেনে আবেদন জমা দিতে পারবে।

রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় ডিসকাউন্ট কমিটিতে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ)–কে সহ-সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই সিদ্ধান্ত রপ্তানিকারকদের নগদ প্রবাহ বজায় রাখতে, বিরোধ কমাতে এবং রপ্তানি আয় আইনগতভাবে দেশে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ, যে কোনো পণ্য বিদেশে যে দামে রপ্তানি করা হয়েছে, কোনো কারণে বিদেশি ক্রেতা যদি সেই পুরো মূল্য পরিশোধ না করে কম টাকা দিতে চায়, তাহলে যেই কম দামে পরিশোধ করার অনুরোধ বা দাবি করা হয়, সেটাই হলো ডিসকাউন্ট ক্লেইম।

গুজরাটে দেহব্যবসা চক্রের হাত থেকে ১২ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার

গুজরাটে দেহব্যবসা চক্রের হাত থেকে ১২ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার

 ভারতের গুজরাটের ভারুচ জেলা পুলিশের লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (এলসিবি) এবং স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপের (এসওজি) যৌথ অভিযানে একটি দেহ ব্যবসা চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। এই অভিযানে ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ১৪ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

গুজরাটে দেহব্যবসা চক্রের হাত থেকে ১২ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার


ভারুচ জেলা পুলিশ শনিবার জানিয়েছে, তারা অবৈধ অভিবাসী সংশ্লিষ্ট একটি দেহব্যবসা চক্রের পর্দাফাঁস করেছে এবং ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও পশ্চিমবঙ্গের দুইজন সহ মোট ১৪ জন নারীকে উদ্ধার করেছে।

এই ঘটনায় চারজন পুরুষকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তাকারী এজেন্টদের নেটওয়ার্কের অংশ বলে অভিযোগ রয়েছে।

অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের সন্ধানে ভারুচ জেলা পুলিশের এলসিবি এবং এসওজির একটি যৌথ অভিযানের সময় এলসিবি পুলিশ পরিদর্শক এম পি ভালা একটি গোপন তথ্য পান। তথ্যটি ছিল ফারুক শেখ নামে একজন বাংলাদেশি এজেন্টের সম্পর্কে। অভিযোগ অনুযায়ী, সে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের জেলায় বসতি স্থাপনে সহায়তা করত। সে বিউটি পার্লার বা গৃহকর্মী হিসেবে চাকরির লোভ দেখাতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফারুক শেখ নারীদের দেহ ব্যবসায় ঠেলে দিত এবং তাদেরকে জাম্বুসারে তার বাড়িতে আটকে রাখত। সেখান থেকে এই পতিতালয়টি পরিচালিত হত।

পুলিশ জানিয়েছে, নারীদের ভারুচ এবং আঙ্কেলেশ্বরের স্পাগুলোতে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, “এদের মধ্যে তিনজন নারী ভারুচের নাজিম খান পরিচালিত 'মুসকান স্পা'-এ কাজ করত, তিনজন ভারুচের রইস শেখ পরিচালিত একটি গেস্ট হাউসে কাজ করত এবং চারজন নারীকে সুজিতকুমার পরিচালিত আঙ্কেলেশ্বরের একটি স্পাতে পাঠানো হয়েছিল।”

যৌথ পুলিশ দল তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০ জন নারীকে উদ্ধার করে, আর চারজনকে শেখের বাড়িতে পাওয়া যায়।

পুলিশ দাবি করেছে, “ফারুক শেখকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ করে যে, সে নিজেও বাংলাদেশ থেকে একজন অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ভারতে গিয়েছিল এবং পশ্চিমবঙ্গে ভুয়া পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। সে এক দশক ধরে গুজরাটের বিভিন্ন শহরে বসবাস করছিল। সে বাংলাদেশি এজেন্টদের নেটওয়ার্ক এবং তার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীদের ভারতে প্রলুব্ধ করত। সে তাদের বিউটি পার্লার এবং গৃহকর্মী হিসেবে চাকরির প্রস্তাব দিত...।”

পুলিশ জানিয়েছে, ফারুক শেখ নাকি আরও স্বীকার করেছে, সে ৬০ জন বাংলাদেশি নারীকে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে।

“সে আরও স্বীকার করেছে যে তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ১২ জন ছাড়াও, সে এজেন্টদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গোয়া, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানের মতো অন্যান্য রাজ্যে অন্যান্য বাংলাদেশি নারীদের বসতি স্থাপনে সহায়তা করেছিল,” দাবি পুলিশের।

পুলিশ জানায়, অভিযানকালে মোবাইল ফোন এবং ৬৪,০০০ টাকা ছাড়াও বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয়পত্রও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত চারজন পুরুষ হচ্ছেন শেখ, নাজিম খান, রইস শেখ এবং সুজিতকুমার ঝা। তাদের বিরুদ্ধে ইম্মোরাল ট্র্যাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট, ১৯৫৬-এর বিভিন্ন ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।