Saturday, April 04, 2026

ইরানের প্রতিরোধে আমেরিকা ধরাশায়ী, বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি।

 

ইরানের প্রতিরোধে আমেরিকার বড় ধাক্কা: যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২৬ — মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে আমেরিকা এখন পর্যন্ত তার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। ইরানের পাল্টা আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নষ্ট হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে। ইরান এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে।

ইরানের আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি:

মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৭টি আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেসে অবস্থিত অত্যাধুনিক AN/FPS-132 রাডার সিস্টেমসহ মূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে, যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।

বাহরাইনের ফিফথ ফ্লিট সদর দপ্তর, কুয়েতের আলি আল সালেম ও ক্যাম্প আরিফজান, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বেসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র।

প্রথম দুই সপ্তাহেই ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS) এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে প্রথম কয়েক দিনেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি করেছে ইরান, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি।

ইরানের এই প্রতিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং তেল পরিবহনে চীনা ইউয়ানে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের অভিযান ইরানের নিউক্লিয়ার ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দুর্বল করেছে। তবে ইরানের পাল্টা আক্রমণ দেখিয়ে দিয়েছে যে তেহরান এখনও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। যুদ্ধ শুরুর এক মাস পরেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষণ এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আমূল বদলে দিতে পারে। ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। বিশ্ববাসী উভয় দেশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

#ইরানযুদ্ধ #ইরানআমেরিকা #মধ্যপ্রাচ্যসংঘাত #USIranWar


শেয়ার করুন
Inzamul Haque

Author: Inzamul Haque